. .
টেকনাফে যাত্রীবাহী বাসে ৫৭ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূলহোতাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার হ্নীলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয় বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
সূত্রগুলোর দাবি, হ্নীলায় অভিযানের সময় ডাকাতির ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী হিসেবে সন্দেহ করা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাঁর আরও দুই ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
গত রোববার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের দিকে যাওয়ার সময় পালকি পরিবহনের একটি বাসের গতিরোধ করে একদল মুখোশধারী অস্ত্রধারী ডাকাত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কে পেরেক লাগানো একটি বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে বাসটির পথরোধ করা হয়। এরপর অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসে থাকা বিকাশের তিন বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে আরমান (২৪) নামের এক বিক্রয় প্রতিনিধি আহত হন। তাঁর সঙ্গে থাকা সাকিব (২১) ও একরাম (২২)ও আহত হন। তাঁরা সবাই টেকনাফ পৌরসভার বাসিন্দা।
জানা গেছে, বিকাশের ওই তিন কর্মী টেকনাফ সীমান্ত এলাকার একটি ব্যাংক থেকে ৫৭ লাখ টাকা তুলে হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের এজেন্টদের কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। পথে দমদমিয়া এলাকায় তাঁদের বহনকারী বাসটি ডাকাতদের কবলে পড়ে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার আগে এক নারীকে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সময় দেখা যায়। পরে ওই নারী ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেন বলে তাঁদের সন্দেহ। তবে এ তথ্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং পুলিশও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির ঘটনায় অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। লুট হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
মন্তব্য করুন