. .
‘৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না’—এমন বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন মো. আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ বক্তব্য দেন। জনসভা চলাকালে মো. আফজাল হোসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন বলে জানানো হয়।
এরপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি আল-কোরআন চান, না বিদআত চান? আল-কোরআন যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলামীকে চাইতে হবে। তারা সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। সংসদে উচ্চস্বরে বলবে—এই দেশ মুসলমানের দেশ। যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষ মুসলমান, সেখানে কোনোদিন বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না, এমনকি সংবিধানও থাকতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কি শাসন থাকবে? আল্লাহর কোরআনের শাসন থাকবে। আজ চুরি করলে যদি হাত কেটে দেওয়া হয়, তাহলে কি এই এলাকায় আর চুরি হবে? আমরা সেই শাসন চাই।’
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার চিন্তা নেই ইনশাআল্লাহ। মানুষ বুঝতে পেরেছে ধর্ম কাকে বলে, ন্যায় কাকে বলে, আদর্শ কাকে বলে।’
এ বক্তব্যের সমালোচনা করে বরগুনা-২ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সায়মন রহমান (মুন্না) বলেন, ‘জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত নেতা মো. আফজাল হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নির্বাচন আচরণবিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। বক্তব্যের সময় জামায়াতের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তিনি এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয় বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ করেননি।’
তিনি এ ঘটনায় ডা. সুলতান আহমদ ও মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ বলেন, ‘তিনি নতুন মানুষ, আমাদের সঙ্গে কালই পরিচয়। তিনি ওই এলাকার একজন অবসরপ্রাপ্ত মুরুব্বি। আবেগে কথা বলে ফেলেছেন। বলার পর আমাদের কিছু করার থাকে না।
জামায়াতে যোগদান এভাবে হয় না। নির্বাচনের সময় ফর্ম পূরণ, অঙ্গীকার—সব প্রক্রিয়া আছে। আমাদের মুখ থেকে বা আমাদের কোনো নেতার মুখ থেকে এমন বক্তব্য আসেনি। আমার বক্তব্য দেখলেই বোঝা যাবে—আমি বিরোধী দলের কারও নামও নিইনি।’
বরগুনার বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. পলাশ আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মন্তব্য করুন