. .
চৈত্রের সকাল। সূর্য ওঠার আগেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কবিতা চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন পুণ্যার্থীরা। কেউ পরিবারের সঙ্গে, কেউ দলবদ্ধভাবে সবাই এসেছেন এক বিশ্বাসে: বারুণী স্নানে পাপ মোচন আর পুণ্যলাভের আশায়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় আয়োজন বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজা উপলক্ষে দিনভর মুখর ছিল কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কবিতা চত্বর ছাড়িয়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ সৈকতজুড়ে বাড়তে থাকে ভক্তদের উপস্থিতি।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে বারুণী স্নান করলে পাপ মোচন হয় এবং পুণ্য লাভ হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণসহ সব বয়সী মানুষ এই আয়োজনে অংশ নিতে কক্সবাজারে ছুটে আসেন।
দিনভর দলে দলে পুণ্যার্থী সমুদ্রের জলে স্নান করেন। এরপর গঙ্গাপূজা, প্রার্থনা ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন তারা। অনেকেই পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন।
এ উপলক্ষে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, গীতাপাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা আয়োজন করা হয়। অদ্বৈত-অচ্যুত মিশন বাংলাদেশ, কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কোনো ধর্মই বিদ্বেষ শেখায় না; বরং সব ধর্মেই মানবতা, সহমর্মিতা ও শান্তির বাণী রয়েছে। বিভাজনের রাজনীতি থেকে দূরে থেকে সবাইকে মিলেমিশে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
দিন শেষে ঢেউয়ের শব্দে, প্রার্থনার সুরে আর মানুষের বিশ্বাসে ভর করে সমুদ্রসৈকত যেন হয়ে ওঠে এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলা।
মন্তব্য করুন