. .
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজার শহর ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে হঠাৎ করেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দাম বেড়ে গেছে। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে গ্যাস বিক্রি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
বর্তমানে কক্সবাজারে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারাও উচ্চ দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
কক্সবাজার শহরের একজন গ্যাস ব্যবসায়ী মনজুর রহমান বলেন, “পাইকারি বাজারে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকায়। এর সঙ্গে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যোগ হলে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না।”
এদিকে এলপিজি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি সরওয়ার কামাল সিকদার টিটিএনকে বলেন, বড় গ্যাস কোম্পানিগুলো এলসি খুলতে না পারায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিবহনের সময় গ্যাস মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এসব কারণেই বাজারে দাম বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনারও আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিইআরসি জানুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা রোববার সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে কক্সবাজারের বাজার পরিস্থিতি এই সরকারি সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।
দাম বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। অনেক পরিবার আবারও লাকড়ির চুলায় রান্নায় ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। শহরের রুমালিয়ার ছড়া এলাকার বাসিন্দা বুলবুল আক্তার বলেন, “দুই হাজার টাকা দিয়ে গ্যাস কেনা আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়ে লাকড়ির চুলায় রান্না করছি।”
বিইআরসির তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা করা হয়েছিল।
সরকারি নির্ধারিত মূল্য ও স্থানীয় বাজারদরের এই বড় পার্থক্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত বাজার তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন