. .
টেকনাফ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফে সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) পদটি গত ১০ আগস্ট থেকে শূন্য। এর আগে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ওই দিন বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে চলে যান। এর আগে থেকেই উপজেলার ভূমি কার্যালয়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ পদ কানুনগো প্রায় ছয় মাস ধরে শূন্য রয়েছে। এ দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় ভূমি প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসিল্যান্ডের কাজও দেখছেন। তাঁর নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি ভূমি কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে কানুনগোর দায়িত্ব অতিরিক্ত হিসেবে পালন করছেন একজন সার্ভেয়ার।
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ১০ আগস্ট এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই পদটি শূন্য রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের ২৭টি উপজেলায় বর্তমানে এসিল্যান্ড পদ শূন্য রয়েছে। একটি বিসিএস ব্যাচ এখন প্রশিক্ষণে রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে এসব শূন্য পদে নতুন এসিল্যান্ড পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ভূমি কার্যালয়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ পদ কানুনগোও বিভিন্ন উপজেলায় শূন্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। নতুন করে কানুনগো নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত কিংবা সার্ভেয়ারদের পদোন্নতির মাধ্যমে এ পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সার্ভেয়ারদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভূমি প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে নামজারি-খারিজ, জমির রেকর্ড হালনাগাদ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, খাসজমি ব্যবস্থাপনা, সরকারি জমি রক্ষা এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের শুনানি ও নিষ্পত্তি উল্লেখযোগ্য। এসব কাজের অনেক ক্ষেত্রেই এসিল্যান্ডের শুনানি, সিদ্ধান্ত বা অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ফলে পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে নামজারি ভূমিসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো বৈধভাবে মালিকানা পরিবর্তনের পর রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে নামজারি করতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় আবেদন যাচাই, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন, আপত্তি থাকলে শুনানি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মতো একাধিক ধাপ রয়েছে। এসব ধাপে বিলম্ব হলে জমির রেকর্ড হালনাগাদসহ পরবর্তী বিভিন্ন কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জমির মালিকানা, দখল, সীমানা বা খতিয়ান নিয়ে বিরোধও নিয়মিত ভূমি কার্যালয়ে আসে। সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে শুনানি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
এ ছাড়া খাসজমি ও সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল প্রতিরোধ, দখলমুক্তকরণ এবং সরকারি জমির রেকর্ড সংরক্ষণেও ভূমি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘ সময় দায়িত্বশীল কর্মকর্তা না থাকলে এসব কাজে নিয়মিত তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে চাপ তৈরি হতে পারে।
ভূমি উন্নয়ন কর আদায় এবং জমির রেকর্ড-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার সঙ্গেও এসিল্যান্ডের কার্যালয়ের কার্যক্রম যুক্ত। ফলে কর্মকর্তা সংকটের প্রভাব শুধু সেবাগ্রহীতাদের ওপর নয়, সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে।
সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফে ভূমি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব আরও বেশি বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, জমির মালিকানা, সরকারি সম্পত্তি, খাসজমি ও রেকর্ড-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল হওয়ার সুযোগ নেই। দ্রুত একজন নিয়মিত এসিল্যান্ড ও কানুনগো পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে জমে থাকা আবেদন, শুনানি ও অন্যান্য ভূমিসংক্রান্ত কাজ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান স্থানীয়রা।
এসিল্যান্ড ও কানুনগো পদ শূন্য থাকার বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, একজন সার্ভেয়ারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কানুনগোর কাজ চালানো হচ্ছে। তিনি নিজেও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসিল্যান্ডের কাজ দেখছেন।
ইউএনও আরও বলেন, ভূমিসেবা কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করার জন্য শূন্য পদগুলোর বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারকে জানানো হয়েছে। দ্রুতই নতুন একজন এসিল্যান্ড পদায়ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন