. .
সমাজে সংঘটিত বেশির ভাগ ঘৃণ্য ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়া মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুধু অপরাধীকে শাস্তি দিলেই হবে না, অপরাধের মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অপরাধের মূল কারণ অনুসন্ধান করে সমাজকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করতে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ শুধু একটি বাহ্যিক উপসর্গ। অপরাধের মূল কারণ অনুসন্ধান করে গোড়ায় আঘাত করতে হবে। অপরাধীকে সাজা দেওয়ার পাশাপাশি কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা সমাজকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে বের করতে হবে। অপরাধের উৎসমুখে সমাধান আনা গেলে সমাজে অপরাধের হার কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলেছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় পুরোনো আইন যথেষ্ট নয়। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আইন আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিং মোকাবিলায় ২০২৬ সালের নতুন আইন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম গভীরভাবে সম্পর্কিত। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রাইম রিপোর্টারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ৩১৮ জন পেশাদার সদস্য নিয়ে ৪৩ বছর ধরে ক্র্যাব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ক্রাইম রিপোর্টারদের ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগত দায়িত্বের বিষয়টি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হলে তাঁদের সহায়তার বিষয়টি সিএসআর ফান্ড বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সাংবাদিকেরা সমাজের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে অপরাধ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত উদ্যোগে অপরাধ প্রতিরোধের কার্যকর পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।
পরে কেক কেটে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন