পেকুয়া প্রতিনিধি
মায়ের ইন্তেকালের শোক কাটতে না কাটতেই মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে পিতাকেও হারিয়ে চরম বেদনায় ভেঙে পড়েছেন পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ফাঁসিয়াখালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দীন। একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর এমন স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ইন্তেকালে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকার প্রবীণ মুরব্বি, সমাজসেবক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি আব্দুল কাদের (৮১) মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টায় চট্টগ্রাম শহরের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি একাধিক সন্তান, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় পূর্ব মেহেরনামা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র মাওলানা মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দীন ইমামতি করেন। জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ জড়ো হতে থাকেন। জানাজাস্থলে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।
জানাজায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সদস্য প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, জেলা সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ, জেলা শুরা সদস্য আকতার আহমদ, চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল বাশর, পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. নুরুল কবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, মরহুম আব্দুল কাদেরের স্ত্রী বদিউজ্জামান বেগম গত ৪ জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। স্বামী-স্ত্রীর মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে ইন্তেকালে এলাকাবাসী একে বিরল ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, আব্দুল কাদের ছিলেন একজন ধর্মভীরু, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তিনি আজীবন সমাজসেবা ও দ্বীনি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর জন্য এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে পূর্ব মেহেরনামা এলাকাসহ পেকুয়া উপজেলায় এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে জানাজা শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।