. .
একদিকে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতবিক্ষত পেকুয়ার টৈটং। অন্যদিকে সেই পাহাড়ি রিজার্ভের ছড়া ও ঢালে বসানো হয়েছে বালু তোলার মেশিন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই বিভিন্ন পয়েন্টে আবারও শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন। এতে ভবিষ্যতে পাহাড়ধস, ভূমিক্ষয় ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
টৈটং ইউনিয়নের পাহাড়ি রিজার্ভ এলাকার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বালু উত্তোলনের এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের ভাষ্য, পাহাড়ি ছড়া ও ঢাল থেকে মেশিনের সাহায্যে নিয়মিত বালু তোলা হচ্ছে। এতে ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ ও পাহাড়ের মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, টৈটং বিট অফিসের পশ্চিম পাশের এলাকা, ঝুমপাড়া, পূর্ব মাদ্রাসাপাড়া এবং টৈটং সীমান্তবর্তী পুইছড়ি বিটের অধীন কয়েকটি এলাকায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব পয়েন্টে বিভিন্ন ব্যক্তির নেতৃত্বে মেশিন বসিয়ে বালু তোলার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যে পাহাড়ি ঢল ও বন্যা এরই মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, সেই একই পাহাড়ি ছড়া ও ঢাল কেটে বালু তোলা হলে পরবর্তী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে কি না।
সম্প্রতি টৈটংয়ের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, কোথাও পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক ও বসতবাড়ি। এমন বাস্তবতায় পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু উত্তোলনকে ভবিষ্যৎ দুর্যোগের জন্য নতুন ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা।
তাঁদের মতে, পাহাড়ি ছড়া কেটে বালু উত্তোলন করলে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশ দুর্বল হয়ে ভূমিক্ষয় ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানির চাপ তৈরি হলে নিচু এলাকার মানুষের দুর্ভোগও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কার্যক্রম প্রকাশ্যে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি নেই। কোথাও কোথাও রাজনৈতিক প্রভাবের ছত্রচ্ছায়ায় বালু উত্তোলন চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যাঁদের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, টৈটং এলাকায় একটি অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি মেশিন জব্দ করা হয়েছে। বাকি যেসব পয়েন্টে বালু উত্তোলন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে মেশিন জব্দ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পাহাড়ি রিজার্ভ এলাকায় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের আশঙ্কা, এখনই ব্যবস্থা না নিলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন কোনো দুর্যোগের মুখোমুখি হতে পারে টৈটং।
মন্তব্য করুন