. .
টেকনাফ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে যাওয়ার সড়কটি এখন কাদা ও গর্তে ভরা। হেঁটে চলাচল তো কঠিনই, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচলেও ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফ পৌর এলাকার ট্রানজিট জেটিঘাটের প্রায় ৫৫০ মিটার দীর্ঘ সড়কের বিভিন্ন অংশ কাদায় ভরে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর জমে আছে পানি। এ অবস্থায় মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যান চলাচল করতে গিয়ে চালকদের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাট সড়কটি পৌর এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিজিবি, কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের লোকজনও এ সড়ক ব্যবহার করেন। পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনে যাওয়ার একমাত্র পথও এটি।
পৌর প্রশাসক জানান, সম্প্রতি ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা নিয়ে যাওয়ার সময় সড়কটির কারণে পৌরসভার একটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০১৩ সালে নির্মিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটটি নাফ নদীর তীরে অবস্থিত। প্রায় ৫৫০ মিটার দীর্ঘ জেটি, সড়কবাতি, পার্কিং এলাকা ও দুই পাশে সবুজ প্যারাবনের কারণে জায়গাটি স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিদিন অনেক মানুষ সেখানে ঘুরতে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের বর্তমান অবস্থার কারণে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে। পৌর শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় অটো বা সিএনজি ছাড়া সেখানে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
টেকনাফ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. ইসমাঈল বলেন, ট্রানজিট ঘাট পৌরসভার রাজস্ব আয়ের অন্যতম খাত। এ খাত থেকে প্রতিবছর পৌরসভা প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু সড়কটির সংস্কারের বিষয়ে ইজারাদারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, রাজস্ব নেওয়া হলেও নাগরিকেরা প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ট্রানজিট সড়কটি পৌরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বর্ষা ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে।
পৌর প্রশাসক আরও বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তবে বৃষ্টির কারণে এখনই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আবহাওয়া অনুকূলে এলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
মন্তব্য করুন