. .
পেকুয়া প্রতিনিধি
যানজট, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, পরিবেশদূষণ এবং খেলার মাঠ দখল নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার এসব নাগরিক সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার পেকুয়ার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলামের কাছে আবেদনটি দেন পেকুয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট।
বেলা তিনটার দিকে দেওয়া আবেদনে পেকুয়া চৌমুহনী ও পেকুয়া বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশে থাকা ভাসমান দোকান ও হকার নিয়ন্ত্রণ করে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা, যানজট নিরসন, বাজারের বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট জায়গায় ডাস্টবিন স্থাপন এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া পেকুয়া বাজারে ছালেহা কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ঐতিহাসিক খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার উপযোগী করার দাবি জানানো হয়েছে। বাজারে চুরি প্রতিরোধে হাই-পাওয়ার ক্যামেরা স্থাপনসহ আরও কয়েকটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও ফুটপাত দখলের কারণে পেকুয়াবাসী দুর্ভোগে আছেন। বিশেষ করে পেকুয়া বাজার ও চৌমুহনী এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গত তিন মাস ধরে যুবদলের নেতা-কর্মীরা বাজারের যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কাজ করেছেন। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের উদ্যোগ প্রয়োজন।
খেলার মাঠের বিষয়ে তিনি বলেন, ছালেহা কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠটি একসময় খেলাধুলায় মুখর থাকত। এখন বিভিন্নভাবে জায়গা দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে সেখানে খেলাধুলার পরিবেশ নেই। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য মাঠটি পুনরায় উন্মুক্ত করা জরুরি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলাম বলেন, নাগরিকদের পক্ষ থেকে যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বাজার ও চৌমুহনীতে ডাস্টবিন স্থাপন, ছালেহা কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের খেলার মাঠ উন্মুক্ত করা এবং চুরি প্রতিরোধে হাই-পাওয়ার ক্যামেরা স্থাপনসহ কয়েকটি দাবি পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ডাস্টবিন স্থাপনের জন্য একটি জায়গা চিহ্নিত করে অস্থায়ী ডাস্টবিন বসানোর বিষয়ে তহসিলদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গেও কথা হয়েছে।
খেলার মাঠ প্রসঙ্গে আনিসুল ইসলাম বলেন, জায়গাটির ফাইল বের করতে তহসিলদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি জায়গা কেউ দখল করে থাকলে আইনগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।
পরে তাঁর নির্দেশে তহসিলদার মাহামুদুল হক যুবদল নেতা কামরান জাদিদ মুকুট ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে অস্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের জায়গা এবং খেলার মাঠের স্থান পরিদর্শন করেন।
ট্রাফিক সার্জেন্ট দিদার বলেন, যানজট নিরসনের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে পেকুয়া বাজার ও চৌমুহনীর যানজট কমবে, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে, যত্রতত্র ময়লা ফেলা কমবে এবং শিশু-কিশোরদের জন্য হারিয়ে যাওয়া খেলার মাঠটি আবারও ফিরবে।
মন্তব্য করুন