. .
সায়মুন ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 15, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে অনিশ্চয়তায় লিয়াকত আলী, তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা কেরুণছড়িতে বন্যা ও টানা বর্ষণে সবচেয়ে অসহায় পরিবারগুলোর একটি এখন ৬৫ বছর বয়সী লিয়াকত আলীর পরিবার। জীবনের শেষ বেলায় এসে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।

এক সময় জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন লিয়াকত আলী। প্রবাসে থাকার কারণে অনেক দেরিতে বিয়ে করায় বর্তমানে তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে এখনো ছোট। সংসারের দায়িত্ব বাড়লেও বয়সের ভারে আগের মতো কাজ করার সক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দিনমজুরির কাজ করেই কোনোমতে পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যা ও দুর্যোগ তার সেই সামান্য আয়ের পথটুকুও বন্ধ করে দিয়েছে।

স্ত্রী আরফা বেগম ও চার সন্তানকে নিয়ে কেরুণছড়ির পাহাড়ি এলাকায় দুই কক্ষের একটি ঘরে বসবাস করতেন লিয়াকত আলী। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তাদের ঘরের চারপাশের দেয়াল ভেঙে পড়ে। এতে বসতঘরটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

লিয়াকত আলী বলেন, আমার কামাই করার মতো তেমন সুযোগ নাই। বয়স হয়ে গেছে, নিয়মিত কাজও করতে পারি না। যা ছিল তাও এই বন্যায় শেষ হয়ে গেছে। ঘরের চারপাশের দেয়াল ভেঙে পড়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো, কিভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।

তার স্ত্রী আরফা বেগম বলেন, আমাদের ঘরের চারপাশের দেয়াল ভেঙে গেছে। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। আমার স্বামী বয়সের কারণে আগের মতো কাজ করতে পারেন না, আবার এলাকায় কাজের সুযোগও কম। এখন সংসার চালানো অনেক কঠিন হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, "ত্রাণ হিসেবে আমরা একমুঠো খিচুড়ি ভাত এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণসামগ্রী পেয়েছি। তবে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য ঘর মেরামত এবং নিয়মিত সহায়তা খুবই প্রয়োজন।"

স্থানীয়দের মতে, লিয়াকত আলীর পরিবার বর্তমানে টৈটং ইউনিয়নের সবচেয়ে অসহায় পরিবারগুলোর একটি। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত উপার্জনে গড়ে তোলা বসতভিটাটিই ছিল তাদের শেষ সম্বল। দুর্যোগে সেই আশ্রয়ও এখন ধ্বংসের মুখে।

শুধু লিয়াকত আলীর পরিবারই নয়, টৈটং ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদের আরও বেশ কয়েকটি পরিবার একইভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেছে এবং খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এসব পরিবার এখন সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে টৈটংয়ের পাহাড়ি এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আপিলে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ

1

ব্রাম্মণবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার

2

নাফ নদীতে পুঁতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণে টেকনাফে যুবকের পা বিচ্

3

কক্সবাজারের চারটি আসনে ১০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

4

কক্সবাজারে ধর্ষণ মামলায় ১ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

5

বান্দরবানে ৪৩ পর্যটক নিয়ে খাদে পড়ল বাস

6

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়: মির্জা ফখরু

7

রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

8

জমি বিরোধের জের: খুনিয়াপালংয়ে শ্রমিকলীগ নেতার হামলায় ছাত্রদল

9

তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়, আপাতত মজুদ পর্যাপ্ত

10

গুলিস্তান খদ্দর মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

11

নির্বাচন ও গণভোট/ক্যাম্প থেকে বের হতে পারবেন না রোহিঙ্গারা

12

জেলার দশম উপজেলা মাতামুহুরী

13

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ

14

কক্সবাজারের হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সড়কে ছাত্র-জনতার ব্লকেড

15

উখিয়ায় সেহেরির সময় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু

16

জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩

17

মাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট তারেক রহমানের

18

‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত

19

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

20