
বিশেষ প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ডাকযোগে ভোট বা পোস্টাল ব্যালটের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ২৮ হাজার ৭৩৪ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ২৮ হাজার ৬৩০ জনের আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়। বিভিন্ন কারণে ১০৪ জনের আবেদন বাতিল করা হয়।
ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে ২৮ হাজার ৬২৯টি পোস্টাল ব্যালট প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার ৬৬৫টি ব্যালট ভোটারদের ঠিকানায় পাঠানো হয়। সরবরাহজনিত জটিলতার কারণে ১৪৬টি ব্যালট বিতরণ সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো ডাক বিভাগে ফেরত আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০ হাজার ৭৮২ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ১৫০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৬৬৩টি ব্যালট ডাকযোগে ফেরত এসেছে এবং ৪ হাজার ৪৪৩টি ব্যালট ভোটাররা সরাসরি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন। যাচাই শেষে মোট ১৬ হাজার ২১৯টি পোস্টাল ব্যালট গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আসনভিত্তিক হিসাবে কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে ৯ হাজার ৬৩৫টি, কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে ৪ হাজার ২১২টি, কক্সবাজার–৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে ১০ হাজার ৯১৭টি এবং কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে ৩ হাজার ৮৬৬টি পোস্টাল ভোট পড়েছে। চারটি আসনের মধ্যে সর্বাধিক পোস্টাল ভোট পড়েছে কক্সবাজার–৩ আসনে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার পর কক্সবাজার ইনডোর স্টেডিয়ামে এসব পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। নিয়মিত ভোট গণনার আদলেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। প্রতি ৩০০ ভোটের জন্য একজন করে সহায়ক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রার্থীরা স্বশরীরে অথবা এজেন্টের মাধ্যমে ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো গণনা প্রক্রিয়া সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে যাচাই শেষে ব্যালট বাক্স খুলে স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা করা হবে। একই সঙ্গে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যালটও আলাদাভাবে গণনা করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমানসহ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ভোট দিয়েছেন। পাশাপাশি দেশের ভেতরে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী এবং কারাবন্দীরাও এ ব্যবস্থায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে কোন দেশ থেকে কতটি ভোট এসেছে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে পর্যাপ্ত প্রচার না থাকায় অনেক সম্ভাব্য ভোটার এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বলে অভিযোগও উঠেছে।