
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বিএনপির একটি মিছিল শেষে ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে হ্নীলা ইউনিয়নের আত্মস্বীকৃত মাদক কারবারি ও সদ্য জামায়াত সমর্থিত শাহ আজম ওরফে আজম সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হ্নীলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নিন্দা জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এশার নামাজের পর বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর একটি পথসভা শেষে মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে শাহ আজম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে নিয়েও কটূক্তি করেন।
হ্নীলা ইউনিয়ন দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ মনির ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে নাটক সাজিয়ে শাহ আজম ধানের শীষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং সে মাদক সম্রাট থেকে আজকে দাঁড়িপাল্লায় প্রতীককে সমর্থন দেওয়ার পর মূলত এ ধরনের বিশৃঙ্খলা শুরু করছে। তিনি ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, উখিয়া-টেকনাফে ধানের শীষের বিজয় ঠেকাতে যে-সকল ষড়যন্ত্র করছে এটা তারই একটি নমুন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আজম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং গাড়ি থেকে একটি অস্ত্র বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে তিনি পুনরায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
একপর্যায়ে তার সহযোগীদের দিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে ঘটনাস্থলে যৌথ বাহিনীর একটি দল পৌঁছায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহ আজম হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জামাল হোসেনের ছেলে। এলাকায় তিনি ‘আজম সরকার’ নামে পরিচিত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে আত্মসমর্পণকারী ১০২ জন আত্মস্বীকৃত মাদক কারবারির একজন ছিলেন। দুই বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও ২০২১ সালের মে মাসে এক লাখ ইয়াবাসহ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্যরা শাহ আজম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।