
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
প্রথম আলোর পাঠক সংগঠন কক্সবাজার বন্ধুসভার নবগঠিত কমিটির প্রথম সাংগঠনিক সভা ও পাঠচক্র সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারে প্রথম আলোর আঞ্চলিক কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বছরব্যাপী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, দায়িত্ব বণ্টন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালার রূপরেখা নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় চলতি মাসেই পরবর্তী সাংগঠনিক সভা ও পাঠচক্র আয়োজনের পাশাপাশি ‘এআই প্রম্পট রাইটিং ও সাইবার সিকিউরিটি সচেতনতা’ বিষয়ক একটি কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার বন্ধুসভার সভাপতি আব্দুল নবী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার বন্ধুসভার প্রধান উপদেষ্টা ও প্রথম আলোর কক্সবাজার আঞ্চলিক প্রধান আব্দুল কুদ্দুস রানা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা জরুরি। তিনি বলেন, পাঠক হিসেবে মতামত প্রকাশের আগে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও তথ্য যাচাই করা নৈতিক দায়িত্ব।
সাধারণ সম্পাদক উলফাতুল মোস্তফা রানার সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারগুব মোরশেদ ও তাঈফ বিন কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক উগ্য মারমা, অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির আজিজ, প্রচার সম্পাদক জিএম ইশরাফ উদ্দিন, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আয়েশা ছিদ্দিকা তাসকিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুবিনুর রশিদ, জেন্ডার ও সমতা বিষয়ক সম্পাদক নাদিয়া আকতার রেশমি, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুজিবুল হাসান আরিফ, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক মুবিনুল ইসলাম, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফাহিম ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আল আমিন।
এছাড়াও নুরুল আবছার পারভেজ, সাঈদ ইবনে আলম, সাজ্জাদ চৌধুরী রাহাত, আসমাউল হুসনা রাহি, রেশমি আক্তার সোহা, আসিফুর রহমান, ইশরাক হোসেনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের হাঙর নদীর গ্রেনেড বইয়ের ধারাবাহিক পাঠচক্র শুরু হয় কক্সবাজার বন্ধুসভার পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক আয়েশা ছিদ্দিকা তাসকিয়ার সভাপতিত্বে।
হাঙর নদীর গ্রেনেড মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি বই যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের বাস্তবচিত্র তুলে ধরে। ধারাবাহিকভাবে পাঠ সংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনা করেন সকলে। যার সারসংক্ষেপ করলে দাঁড়ায়, হলদিগাঁ গ্রামের সেই চঞ্চল কিশোরী বুড়ি একসময় নিজের অজান্তেই ইতিহাসের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে যান। সংসার, স্বামী ও সন্তানের মায়ায় গড়া জীবনে হঠাৎ আছড়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ ঢেউ। চোখের সামনে পাকবাহিনীর গুলিতে ঝরে পড়ে ছেলে কলীমের প্রাণ, তবু ভেঙে পড়েন না তিনি। বরং বুকের ভেতর জমে ওঠে এক নিঃশব্দ আগুন। সেই আগুনেই তিনি দেশের জন্য সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নেন- মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী সন্তান রইসকে ঠেলে দেন মৃত্যুর মুখে। সেই মুহূর্তে বুড়ি আর কেবল এক মায়ের নাম নয়, তিনি হয়ে ওঠেন হাজারো সন্তানের মা, এক স্বাধীনতার প্রতীক। হলদিগাঁর মাটিতে লেখা হয় ত্যাগের এমন গল্প, যা পাঠকের হৃদয় কাঁপিয়ে দেয় এবং বাংলাদেশের জন্মকথাকে আরও গভীর করে তোলে।
সভায় অংশ নেওয়া বন্ধুরা পাঠচর্চা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে বন্ধুসভার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।