
গত দুই বছরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশি টাকা। এ সময়ের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ, যার মধ্যে কেবল গত এক বছরেই বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।
বিনিময় হারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল ১.৪৩ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে ১.৩৮ টাকা এবং চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ১.২৮ টাকায় নেমে এসেছে।
বিপরীতভাবে, বর্তমানে এক টাকা দিয়ে প্রায় ০.৭৮ রুপি পাওয়া যাচ্ছে, যা দুই বছর আগে ছিল মাত্র ০.৭০ রুপি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও টাকার এই শক্তিশালী অবস্থানের চিত্র উঠে এসেছে।
টাকার এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বিনিময় হারের এ পরিবর্তনের ফলে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে দেশীয় মুদ্রায় ব্যয় কমে আসবে।
আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য এবং পরিবহন খরচ অপরিবর্তিত থাকলে, একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় করতে হবে। এর ফলে ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্প উপকরণ ও যন্ত্রপাতি আমদানিকারকরা বিশেষভাবে লাভবান হবেন এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে।
বাণিজ্যের পাশাপাশি ভারতে চিকিৎসা, পর্যটন বা অন্যান্য কারণে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার এই শক্তিশালী অবস্থানের সুফল পাবেন। প্রচলিত বাজারদরে রুপির মান কম থাকায় ভারতে আবাসন, খাবার ও যাতায়াতের মতো স্থানীয় খরচ আগের তুলনায় কমে আসবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র স্মরণ করিয়ে দেন যে, পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য বা ভ্রমণের মোট ব্যয় কেবল বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে না; আন্তর্জাতিক বাজার, শুল্ক, কর এবং লজিস্টিক ব্যয়ও এর সঙ্গে জড়িত।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ও সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।