
মুহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লু, রামু
‘মাদককে না বলুন, সুন্দর জীবন গড়ুন’ এবং ‘মাদক পরিহার করুন, নিজে বাঁচুন, আগামী প্রজন্মকে বাঁচান’—এমন স্লোগানে কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়ায় মাদকবিরোধী র্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতি থেকে রক্ষা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেলতলী বাজার স্টেশনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল চারটা থেকে মাগরিবের আগে পর্যন্ত বাজার ও আশপাশের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালি বের করা হয়।
র্যালিতে পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, তরুণ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানারে মাদকবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়।
র্যালি শেষে বেলতলী বাজার স্টেশনে স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়। তেলাওয়াত করেন হাফেজ জাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রামু প্রেসক্লাবের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মী মো. নুরুল হাকিম হিরু।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের বিস্তারে যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তরুণদের রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শায়লা পারভীন চৌধুরী। এ ছাড়া কামরুন্নাহার, গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোহাম্মদ শাহরিয়ার কালাম, এএসআই মোহাম্মদ ইউনুস, এএসআই টুটুল, গর্জনিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ওবায়দুল ইসলাম লিটন এবং বন বিভাগের ঘিলাতলী বিটের এফসিভি কার্যালয়ের সভাপতি মো. আবু বক্কর বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পরিবহনচালক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক প্রতিরোধে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান প্রয়োজন। এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে তরুণদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা আরও বাড়বে।