
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীসহ ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
১৯ সেপ্টেম্বর মহেশখালী থানায় মামলাটি করেন মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাহারুল ইসলাম। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৮, ৯, ১০, ১২ ও ১৩ ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাতটার দিকে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী-শাপলাপুর সড়কে কুদ্দুস চেয়ারম্যানের খামারবাড়ির সামনে একদল ব্যক্তি মিছিল ও অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে গেলে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষী ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং মিছিলের ভিডিও পর্যালোচনা করে আসামিদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মিছিল ও অবস্থানের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা, অর্থায়ন, আশ্রয় ও প্ররোচনার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মাতারবাড়ী ইউনিয়ন এলাকায় সরকারবিরোধী আরেকটি মিছিলের অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কালারমারছড়া, মাতারবাড়ী, শাপলাপুর, বড় মহেশখালী ও হোয়ানকের বাসিন্দারা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মজিবুল হাসান মুজিব, মঈন উদ্দিন, সোলাইমান ফারাবি, সাদিয়ার আলম রাসেল, মোহাম্মদ সজীব, শাহ আনোয়ার ছিদ্দিক, নাইমুর রহমান টনি, মাসুদুর করিম রানা, সাইফুল ইসলাম, আতিক, সেলিম, ভুট্টু, আব্দুল্লাহ আল নোমান, ফয়েজ উদ্দিন তারিম, শাখাওয়াত রানা, মো. জাকারিয়া, মো. সুলতান, আব্দুল্লাহ আল কাইয়ূম, সালাউদ্দিন সুজন, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাজ্জাদ বাঙ্গালী, অহিদুল কাদের, মো. শাহরিয়া, মো. তানজীদসহ আরও অনেকে রয়েছেন।
পুলিশের এজাহারে শাপলাপুরের সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম একাধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এসেছে। একইভাবে ‘শেফায়েত হোসেন তানিম’ নামটি দুটি পৃথক ক্রমিকে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তাঁদের পিতার নাম আলাদা। ফলে তাঁরা একই ব্যক্তি নাকি পৃথক ব্যক্তি, তা এজাহারের পাঠ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ ছাত্রলীগ বা যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং নিরীহ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।