
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া-২ অনুবিভাগ) মো. মাহফুজুল আলম খানকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ বি এম এহছানুল মামুন এবং সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মমিনুল হাসান। মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া-১ অধিশাখার উপসচিব মো. মিজানুর রহমান সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে কমিটি চাইলে আরও সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে।
বিকেএসপি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় অনুশীলন শেষে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের একটি দেয়াল টপকাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ইয়াসের। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে বিকেএসপির মতো সংরক্ষিত ও নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি সরকারি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসের ভেতরে কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইয়াসেরের মরদেহ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়।
নিহত ইয়াসের আহমেদ জীম মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের মেহেরিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখতার আহমেদের দ্বিতীয় ছেলে। ছোটবেলা থেকেই কারাতের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন পূরণে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তিনি।
ইয়াসেরের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহপাঠী ও ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁরা তদন্ত কমিটির কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা চিহ্নিত করার প্রত্যাশা করছেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিকেএসপিসহ ক্রীড়া প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।