
পেকুয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পৃথক দুটি অগ্নিকাণ্ডে সাত পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালী এলাকায় একই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের পাঁচটি বসতঘর পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, ওই ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ধান, আসবাবসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। একই দিন শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা এলাকায় আগুনে আরও দুটি বসতঘর পুড়ে যায়। ওই ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা ও ৯টার দিকে পৃথক দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াখালী এলাকায় ওবায়দুল হাকিমের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই পাঁচটি বসতঘর পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ পরিবারের সদস্যরা হলেন মাহমুদুর রহমান, সৌদি প্রবাসী আমিনুল হক, ট্রাকচালক রেজাউল করিম, গরু ব্যবসায়ী আজিজুল হক ও বিকাশ এজেন্ট মোস্তাক আহমদের পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য কপি আক্তার বলেন, সকালে কিস্তির টাকা দিতে পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বাড়ির এক পাশে আগুন দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন ছুটে এলেও অল্প সময়ের মধ্যে আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, আগুনে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ধান, আসবাবসহ ঘরের প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে।
সৌদি প্রবাসী আমিনুল হকের স্ত্রী জেফসি বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে সন্তানকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। পরে মুঠোফোনে আগুন লাগার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখেন সবকিছু পুড়ে গেছে। তাঁর ভাষায়, ‘পরনের কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক বলেন, আগুনের খবর পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে না এলে পাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
তিনি আরও বলেন, এলাকার সড়কটি ভাঙাচোরা হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। দ্রুত পৌঁছাতে পারলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো বলে তাঁর ধারণা।
একই দিন ভোররাতে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা এলাকায় পৃথক অগ্নিকাণ্ডে জাকের হোসেন ও ওসমানের দুটি বসতঘর পুড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, আগুনে আসবাব, নগদ টাকা, গৃহস্থালির সামগ্রীসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কয়েকটি পরিবার দিনমজুরের। ঘর হারিয়ে তারা দুর্ভোগে পড়েছে।
পেকুয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তবে এর আগেই ঘরগুলো পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।